শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
সংবাদ শিরোনাম :
সম্পাদকীয়: ঈদুল ফিতরে ভ্রাতৃত্বের দরজা খুলে যাক দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে পালাচ্ছে মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড শীর্ষ নেতা লারিজানি হত্যার শোধ হবে ‘ভয়াবহ’, হুঁশিয়ারি ইরানের আযাদ দ্বীনী এদাার বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ: পাসের হার ৮৭.৯৫ ঈদুল ফিতরের আগেই শহীদ মাওলানা মুশতাক গাজিনগরীর হত্যার বিচার দাবি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দিরাইয়ে ক্বেরাত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন দিরাই-শাল্লার অভিভাবকত্বে প্রধানমন্ত্রী: প্রতিশ্রুতির প্রথম ধাপে দিরাইয়ের ৬৯৭ পরিবারে আগামিকাল বিতরণ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড ট্রাম্পকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের

সম্পাদকীয়: ঈদুল ফিতরে ভ্রাতৃত্বের দরজা খুলে যাক

amarsurma.com
সম্পাদকীয় ঈদুল ফিতরে ভ্রাতৃত্বের দরজা খুলে যাক

মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার:
মানুষ সামাজিক জীব; সমাজের অন্যান্য মানুষগুলোকে নিয়ে বসবাস করা সহজাত ধর্ম। যার কারণে অনেকেই সমাজবদ্ধ চলাফেরা করতে ভালোবাসেন। তারা কারো সাথে উঠতে-বসতে দ্বিধাবোধ করেন না। তবে এর বিপরীত একটি শ্রেণিও রয়েছে। যদিও যুক্তি তাদেরকে হিসেবের মধ্যে গণ্য করে না।
ঈদ মানুষের জীবনে ঘুরে-ফিরে আসে। বছরে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা সাধারণ জীবনের মধ্যে এক আনন্দের আবহ তৈরি করে। ছেলে-বুড়ো, যুবক-যুবতীসহ সকল শ্রেণি ও বয়সের মুসলিমদের মধ্যে এক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে জাতীয় জীবন, রাজনৈতিক জীবন ও মফস্বল জীবনেও এর আর্থিক এবং সামাজিক প্রভাব পড়ে। এটি সামান্য সময়ের জন্য হলেও অর্থনৈতিক চাকা ঘুরে দারুণভাবে। কর্ম জীবনে নতুন প্রত্যয় নিয়ে যারা পুনরায় ফিরে যান নিজ কর্মস্থলে, তারা মনে-প্রাণে একটু হলেও স্বস্তি বোধ করেন এই ঈদের আনন্দটুকু।
বছর ঘুরে ফিরে আসা ঈদুল ফিতর কিংবা ঈদুল আযহায় কর্মজীবি লোকজন নিজ নীড়ে আসে আনন্দ চিত্তে। কিন্তু ফিরে যাওয়ার সময় একটু হলেও মন খারাপ হয়; এটাই স্বাভাবিক। কারণ, অর্থনৈতিক চাপে তারা টিকতে না পেয়ে নিজ এলাকা থেকে দূরে-বহুদূরে চলে যাচ্ছে। নিজ এলাকাতে যদি একটি কর্ম সংস্থানের ক্ষুদ্র ব্যবস্থাও থাকতো, তবে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনের আনন্দ পরিহার করে কলুর বলদের মতো আর কাজ করতে হতো না। নিদেন পক্ষে সারাদিন কাজ করে রাতে অন্তত নিজ পরিবারের সাথে থাকা-খাওয়া করতে পারতো। আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য এখানেই।
নির্বাচন আসলে জনপ্রতিনিধিদের ভুয়া বার্তা আর মিথ্যার ফুলঝুড়ি শুনতে শুনতে সাধারণ মানুষের সাথে ভোটারদের কান ঝালাপালা। নির্বাচন শেষ, আর কাউকেই পাওয়া যায় না জনতার দরদ দেখাতে। আর যিনি নির্বাচিত হলেন, তিনিতো রীতিমতো রাজা-মহারাজা কিংবা বাদশাহী ভাব নিয়েই পাঁচটি বছর পার করতে চান। যে প্রার্থী একজন ভোটারের কাছে নির্বাচনের সময় ৫/১০ বার যেতে পারলেন, এ মহরত সমাপ্তির পর আর কেউই ভোটারদের খবর রাখে না। যার কারণেই অধিকাংশ বিজয়ী পরবর্তীতে আর পাস করে না। কারণ, নিজ এলাকার ভোটারসহ সাধারণ মানুষের মনের ভেতরের কষ্ট বুঝতে না পারা জনপ্রতিনিধি বেশিদিন ঠিকে থাকে না।
দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৫৫ বছর আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ নামক স্বাধীন এই রাষ্ট্রটি উন্নয়নশীল বিশ্বের কাতারে যেতে পারেনি। কারণ অনেক রয়েছে। সমস্যা এক জায়গাতেই, তা হলো সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ধুয়া তুলে আখের গোছানোর নিষ্ফল চেষ্টা। ফলাফল, একটি দেশ বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক মুক্তি নেই এখন পর্যন্ত; পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগসহ নানা সমস্যা আজো বিদ্যমান। এর থেকে উত্তরণের কোনো বিকল্প কেউই চিন্তা করছে না। একটি মফস্বল এলাকাতে না হোক, অন্তত জেলা পর্যায়েও যদি ভালো কোনো কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা থাকতো, তবে একদিকে যেমন কর্মজীবি মানুষ নিজ এলাকায় থেকে কাজ করার সুবিধা পেতো, পাশাপাশি নিজ সন্তানদের লেখাপড়াও বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে পারতো। অর্থনীতি চাকাও জোরদার হতো। এক কথায়, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সাথে সাথে একটি শিক্ষিত কর্মঠ জাতি সৃষ্টি হতো। কিন্তু এই সুযোগ এখনো সীমিত পরিসরে রয়ে গেছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ এই একটি দিকে দৃষ্টি ফেরালেই পুরো একটি জাতির পরিবর্তন সূচিত হতো। কিন্তু তাদের এসব দেখার সময় কোথায়? তারা ধান্ধায় থাকেন, সরকারের কোন প্রকল্প কিভাবে পকেটস্থ করা যায়! এর থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে একটি সুন্দর দেশ উপহার দেয়া আদৌ সম্ভব নয়। মানুষের সামগ্রীক জীবনের যেমন কর্ম প্রয়োজন, তেমনীভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানও প্রয়োজন।
আমরা আশা করবো, বর্তমান সরকার দেশের সাধারণ নাগরিকের কথা চিন্তা করে আগামি বাজেটেই অন্তত পক্ষে জেলা পর্যায়ে একটি করে কর্ম সংস্থানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করবেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দের মতো আরেকটি আনন্দের ঘোষণার অপেক্ষায় জাতি তাকিয়ে রইলো। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশিদের সু-স্বাস্থ্য, নিরাপদ আশ্রয় ও কর্মমুখর পরিবেশ আল্লাহর দরবারে কামনা করছি। -আল্লাহ হাফেয

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com